
স্টাফ রিপোর্টার, কালিহাতী ॥
স্বামী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে একাকী জীবন কাটাচ্ছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌর এলাকার সালেংকা গ্রামের বানেশ্বর বেগম। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরেই বসবাস করছিলেন তিনি। এবার সেই কষ্টের অবসান ঘটেছে। তাঁর জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে কালিহাতী ব্লাড ফাউন্ডেশন। বানেশ্বর বেগমের স্বামী নেই। দুই ছেলেও মারা গেছেন। জীবনের শেষ সময়ে আপন বলতে কেউ না থাকায় ভাঙাচোরা ঘরটিই ছিল তাঁর একমাত্র আশ্রয়। বর্ষা, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় ওই ঘরে বসবাস করা তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।
তাঁর এই অসহায় অবস্থার কথা জানতে পেরে কালিহাতী ব্লাড ফাউন্ডেশন নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
সংগঠনটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশে ও প্রবাসে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। তাঁদের সহযোগিতা এবং সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীদের শ্রমে নির্মাণ করা হয় বানেশ্বর বেগমের জন্য নতুন ঘর। সম্প্রতি ঘরটি তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বানেশ্বর বেগম। দীর্ঘদিনের কষ্টের পর মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ পাওয়ায় তাঁর চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির ছাপ।
বানেশ্বর বেগম বলেন, আমার নিজের বলতে এখন আর কেউ নেই। স্বামী নেই, দুই ছেলেকেও হারিয়েছি। অনেক কষ্ট করে এতদিন ওই ভাঙাচোরা ঘরে দিন কাটিয়েছি। বর্ষা-বৃষ্টি হলে খুব ভয় লাগত। এখন নতুন ঘর পেয়েছি। এটা আমার কাছে সত্যিই স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। যারা আমার এই কষ্টের সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আমার জন্য এত সুন্দর একটি ঘর করে দিয়েছেন। আল্লাহ যেন তাঁদের সবাইকে ভালো রাখেন। আমি তাঁদের জন্য মন থেকে দোয়া করি।
কালিহাতী ব্লাড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মাহবুব হাসান বলেন, কালিহাতী ব্লাড ফাউন্ডেশন শুধু রক্তদানের কার্যক্রমের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব। বানেশ্বর বেগমের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে তাঁর জন্য একটি নিরাপদ ঘরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশে ও প্রবাসে থাকা কয়েকজন মানবিক মানুষের সহযোগিতায় আজ সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
ঘর হস্তান্তরের সময় কালিহাতী ব্লাড ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী ও উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁরা বানেশ্বর বেগমের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর নতুন ঘর ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের খোঁজখবর নেন। স্থানীয়রা জানান, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে ব্যক্তি ও সংগঠনের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিনের কষ্টের পর বানেশ্বর বেগমের মাথার ওপর নতুন ছাদ শুধু তাঁর নিরাপদ আশ্রয়ই নিশ্চিত করেনি। বরং একাকী জীবনে এনে দিয়েছে কিছুটা স্বস্তি ও নিরাপত্তা।





