
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান স্বাক্ষর করছেন, নিয়মিত বেতনও পাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেতে পারছেন না। এতে তাদের ব্যক্তিগত ক্ষতি না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। বিগত ২০২৪ সালের (৫ আগস্টের) পর থেকে এই সমস্যা শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে তা এখনও সমাধান হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- কহেলা কলেজ, বাঁশতৈল এম মনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাংগুরী মাদ্রাসা এবং গত আট মাস ধরে একই ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়া ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এছাড়া মির্জাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষও দেড় বছর ধরে কলেজে যেতে পারছেন না। কিন্তু বেতন পাচ্ছেন।
মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, বিগত ২০২৪ সালের (৫ আগস্ট) আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মির্জাপুর উপজেলায় বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বাধার সম্মুখীন হতে থাকেন। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান হলেও কহেলা কলেজ, বাঁশতৈল এম মনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাংগুরী মাদ্রাসার বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হন মির্জাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এবং ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ। বিগত ২০২৪ সালের (৫ আগস্টের) পরপরই বাঁশতৈল এম মনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমরান হোসেন, কহেলা কলেজের অধ্যক্ষ ঈমাম হোসেন ফারুক, বাংগুরী মাদ্রাসার সুপার আজমল হায়দার খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আন্দোলন করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন। তাদের প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধা দেওয়া হয়। সেই থেকে তারা প্রতিষ্ঠানে যেতে না পারলেও বেতন নিয়মিত পাচ্ছেন এবং অজ্ঞাত স্থান থেকে প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা যেতে না পারায় তাদের ব্যক্তিগত কোনো ক্ষতি না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওই পাঁচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে ওই পাঁচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাবলিক পরীক্ষার ফল বিপর্যয়, নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে না থাকা, লেখাপড়ার মান উন্নত না হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
প্রায় দেড় বছর আগে মির্জাপুর মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও যৌন হয়রানির অভিযোগে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এতে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হন। এই সমস্যাটি এখন পর্যন্ত ঝুলে আছে। তিনি বেতন পাচ্ছেন, কাগজপত্রে সই করতে পারছেন।
প্রায় আট মাস আগে ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কাজী হান্নানের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে আন্দোলন করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন। এতে তিনি প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হন। শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে তিনি যোগদান করলেও তাঁকে কলেজে যেতে বাধা দিচ্ছেন কিছু শিক্ষক ও স্থানীয়রা। তিনি নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন এবং অজ্ঞাত স্থান থেকে কলেজের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন।
কহেলা কলেজের অধ্যক্ষ ঈমাম হোসেন ফারুক বলেন, আমি কলেজের কাগজপত্র স্বাক্ষর করছি এবং বেতন পাচ্ছি নিয়মিত। কলেজের কতিপয় শিক্ষক এবং স্থানীয়দের কারণে কলেজে যেতে পারছি না। বাংগুরী মাদ্রাসার সুপার আজমল হায়দার খান জানান, স্থানীয় কিছু লোকের জন্য মাদ্রাসায় যেতে পারছেন না তিনি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার সাংবাদিকদের জানান, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে সমস্যা সমাধানের জন্য। এখন কোনো প্রতিষ্ঠানেই (৫ আগস্ট) পরবর্তী ধারাবাহিক সমস্যা নেই। কিছুসংখ্যক শিক্ষক এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তা না পাওয়ায় কিছু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।






