
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেল ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ্ হায়দার গংদের সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মধুপুর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মধুপুর উপজেলা নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়কারী শিবলী সাদিক বলেন, আহবায়ক কমিটিতে আওয়ামী পুনর্বাসন, নিয়ম বহির্ভূত, পকেট কমিটি গঠন, ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন, সাবেক প্রধান সমন্বয়কারীর অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ধামাচাপা দেওয়া।
তিনি আরো বলেন, বিগত (৯ জুন) মধুপুর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সরকারি নানান প্রণোদনা ও চাকরির কথা বলে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অন্যায়ভাবে ঘুষ নেওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় এনসিপি মধুপুর উপজেলা কমিটির ২৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৬জন অনাস্থাপত্র দেয়। তার প্রেক্ষিতের গত (১৮ জুন) টাঙ্গাইল জেলা এনসিপি’র আহবায়ক এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন ও সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেলের স্বাক্ষরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যা ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও তিনমাস ১৫দিন যাওয়ার পরও তারা এখন পর্যন্ত তদন্ত রির্পোট জমা দেয়নি। উল্টো কেলেঙ্কারিরা ভুক্তভোগীদের আরও বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়। তদন্ত কমিটি দৃশমান কাজ করতে পারেনি। বরং তারা অন্যায়কারীর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত কাজ করছে। সেখানে টাঙ্গাইল জেলা এনসিপি’র একটা সিন্ডিকেট দল তাদেরকে সহযোগিতা করে।
এরপর এই তদন্ত প্রকাশ না করেই গত (২০ সেপ্টেম্বর) তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা ও অর্থ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত প্রধান সমন্বয়কারীকে বাঁচাতে জেলা কমিটির আহবায়ক এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন ও সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেলের নির্দেশে জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব আঃ মালেকের স্বাক্ষরে কমিটি বিলুপ্তি করা হয়। এরপর গোপনে আহবায়ক ও জেলা সদস্য সচিবের স্বাক্ষরে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিকের সুপারিশে গত (২৭ সেপ্টেম্বর) একটি আংশিক কমিটি প্রকাশ করে। এই কমিটিতে যাকে আহবায়ক করা হয়েছে সে পূর্ব থেকেই আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত ছিল। যার অনেক প্রমাণ ফেসবুকে আছে। মূলত এই কমিটি জেলা সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেল নিজের মনমতো করার জন্য এমন হয়েছে। যা সঠিক হয়নি। কমিটিতে যাদের পদ দেওয়া হয়েছে তারা মধুপুর উপজেলায় থাকেন না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, টাঙ্গাইল জেলা এনসিপি’র সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেলের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলা থেকেই নানান রকম স্বজনপ্রীতি, নিজের লোককে কমিটিতে রেখে স্বেচ্ছাচারিতা, তাদেরকে নিয়ে চাঁদাবাজি করিয়ে ভাগবাটোয়ারা করা, একক আধিপত্য, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন, সিন্ডিকেট ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে।
গত (৩০ সেপ্টেম্বর) দেলদুয়ার উপজেলা এনসিপি কমিটির সদস্যবৃন্দরা টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দেলদুয়ার উপজেলা নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কমিটির সদস্য জুয়েল তার লিখিত বক্তব্যে অনেক অভিযোগ করেন।
মধুপুর উপজেলা নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবন্দ জেলার সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেলের অপসারণ চান এবং রাসেল গংদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এসএম আজম খান হীরা, মীর মোহাম্মদ সোহেল, ফেরদৌস ওয়াহিদ শিশির, সারোয়ার ইকবাল, আজাহার আলী, আলমগীর হোসেন, ছানোয়ার, মধুপুর উপজেলার ছাত্র শক্তির আহবায়ক মেহেদী হাসান শিশির, সদস্য সচিব কামরান হাসান, নাজমুল হাসান ও হৃদয় আহমেদ।






