
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে হারমোনিয়ামের ভেতরে লুকিয়ে অভিনব উপায়ে অস্ত্র পাচারের সময় তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড তাজা গুলি, চারটি ম্যাগাজিন ও অস্ত্র বিক্রির নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজন অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- পাবনা জেলার বারেক ব্যাপারী (৪৯), মুন্সিগঞ্জ জেলার সুজন হোসেন ব্যাপারী (৩২) ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেন ব্যাপারী (৪৫)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এসআরবি টাঙ্গাইলের উপপরিচালক শামসুর রহমান।
টাঙ্গাইল এসআরবির উপ পরিচালক শামসুর রহমান প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানান, টাঙ্গাইল এসআরবি-১৪, সিপিসি-৩ ক্যাম্পের একটি দল বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানার গোলচত্বর এলাকায় সিরাজগঞ্জ-ঢাকাগামী লেনে একটি বিশেষ তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) স্থাপন করে। এ সময় কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘রিয়াজ পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস তল্লাশিকালে বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক যাত্রীর গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাঁকে আটক করা হয়।
পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বারেক ব্যাপারী বাসের মালামাল রাখার বক্সে থাকা কাঠের তৈরি একটি পুরোনো ভাঙা হারমোনিয়ামের ভেতর অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁর দেখানো মতে হারমোনিয়ামের ভেতর নিখুঁতভাবে লুকানো অবস্থায় দুটি বিদেশি পিস্তল (একটি সাদা ও একটি কালো), সাত রাউন্ড সচল গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। আটককৃত বারেক ব্যাপারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উদ্ধার করা অস্ত্রের চালানটি মুন্সিগঞ্জের সুজন ব্যাপারীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। যিনি কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি ক্রয় করেছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ এসআরবি-১১, সদর কোম্পানির একটি দল বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৭টায় মুন্সিগঞ্জ জেলা সদর থানাধীন শিরোলই এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে অভিযুক্ত সুজন ব্যাপারী ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের বসতঘর তল্লাশি করে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও অস্ত্র বিক্রির নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
টাঙ্গাইল এসআরবির উপ পরিচালক শামসুর রহমান আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় পৃথক নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে এসআরবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।





