
নুরুল ইসলাম, দেলদুয়ার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় নির্দেশ অমান্যসহ নানা স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমনকি মাউশির মহা পরিচালকের নির্দেশও তিনি মানছেন না। নিজের খেয়াল খুশিমতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এমন অভিযোগ এনেছেন খোদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে চলছে শীতল লড়াই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়িয়েছে যে, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) কোমলমতি স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করে বিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও বাথুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বেতনের সরকারি অংশ বিগত ’২৪ এর (৫ আগস্ট) সরকার পতনের পর এ পর্যন্ত ৯ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সম্প্রতি বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য মাউশির (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর) মহাপরিচালক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্কুলের দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ প্রদান করেন।
এ সংক্রান্ত বিভাগীয় নির্দেশের চিঠি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে প্রেরণ করে বকেয়া বেতন পরিশোধের তাগিদ দেন। বাথুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল আওয়াল প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের বকেয়া বেতন পরিশোধ করলেও পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ চন্দ্র সাহা বিভাগীয় নির্দেশ অমান্য করে বকেয়া বেতন পরিশোধ করেননি। অফিস আদেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ ও ম্যানেজিং কমিটির আহবায়ক প্রভা রাণী শীলকে তাগিদ দেন। এ নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ক্ষুব্ধ হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেন।
এ বিষয়ে পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক দিনবন্ধু প্রামানিক গত (৫ আগস্ট) সরকার পতনের পর পদত্যাগ করে চলে গেছেন। তার বেতন আমরা কেন দেব। এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষকদের বেতন বন্ধের ও ম্যানেজিং কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। সেজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষা কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করে মানববন্ধন করা হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ উদ্যোগেই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছে এবং বক্তব্যও দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস.এম ফেরদৌস আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, একজন প্রধান শিক্ষক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে পারেন না।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, গত (১৬ সেপ্টেম্বর) মাউশীর মহা পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে অধিদপ্তরাধিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভূক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ২০২৬ এর সেপ্টেম্বর মাসের এমপিও এবং আগস্ট ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে বকেয়া বেতনের অর্থ ইএফটি-তে প্রেরণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান প্রদান কর্তৃক বিল সাবমিট করতে বলা হয়। তার আলোকে মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত চিঠি প্রেরণ করে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। বাথুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল আওয়াল মহাপরিচালকের আদেশ মানলেও পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ চন্দ্র সাহা অমান্য করেছেন। হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি শুধু বলেছি এটা মাউশির ডিজির নির্দেশ, অমান্য করলে আমিসহ আপনিও সমস্যায় পরতে পারেন। তিনি আরও বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একজন প্রধান শিক্ষক মানববন্ধন করতে পারেন না। বরং অফিস আদেশ অমান্য করায় বিধি অনুযায়ী আমি তাকে শোকজ করতে পারি।
এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, পাথরাইর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যেটা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত। স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে একজন প্রধান শিক্ষক বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে পারেন না।






