
গোপালপুর প্রতিনিধি ॥
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হেমনগর জমিদার বাড়ির মাঠ প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট ফুটবল প্রীতি ম্যাচ। জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে সকাল থেকেই মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। খেলা উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার হেমনগর জমিদার বাড়ির মাঠে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম পিন্টু।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের নেতৃত্বে জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি। খেলায় মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহ জেলার কলসিন্দুর দল ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মরহুম ফরহাদ হোসেন একাডেমি দল। উত্তেজনাপূর্ণ দুর্দান্ত খেলায় মরহুম ফরহাদ হোসেন একাডেমি দল (৩-১) গোলে ময়মনসিংহ কলসিন্দুর দলকে পরাজিত করে। ম্যাচজুড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দ।
খেলাটি ঘিরে হেমনগর জমিদার বাড়ির মাঠ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ৪০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে প্রীতি ম্যাচটি সম্পন্ন হয়। মাঠের চারপাশে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ফুটবল নিয়ে নতুন আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি করে। প্রীতি ম্যাচটির আয়োজন করেন হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় ভিপি গোলামরোজ তালুকদার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহফুজুর আলম খান সিদ্দিক, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল মোর্শেদ, গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত, সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম, হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসীম মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আমিনুল ইসলাম, হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গোপালপুর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সভাপতি নাজমুল ইসলাম শিশিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সরাসরি মাঠে খেলতে দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণ ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির পথ সুগম হবে। হেমনগর জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক মাঠে এমন বড় আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা।






