
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন সদ্য বিএনপি থেকে বহিস্কৃত স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে তার উপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন এ ঘোষণা দেন। এ সময় মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন খান বাবলুসহ মোহাম্মদ আলীর সমর্থক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে মোহাম্মদ আলী ওই সময় কোনো কথা বলেননি, এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। মোহাম্মদ আলী নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন-এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই তার সমর্থক বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হন মধুপুর আদালত পাড়ায় আনোয়ার হোসেনের বাসায়। তারা এ সিদ্ধান্তে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দেড় বছর ধরে ঘর-সংসার, স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে নিজের অর্থ ব্যয় করে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন বলে জানান মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের লাল মিয়া। তিনি বলেন, স্থানীয় সন্তান ও কেন্দ্রীয় নেতা হিসাবে জনপ্রিয় হওয়ায় ভেবেছিলাম তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার খবরে আমরা কষ্ট পাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতীক পাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন দুপুর পর্যন্ত প্রচার করেছি। হঠাৎ এমন খবর এলো-নেতা নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন। মাথায় যেন বাজ পড়ল। এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
মধুপুরের আলোকদিয়ার গাংগাইর এলাকার তোতা মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নেতা হয়ে এমন বেঈমানি করলেন কেন? কোথায় যাব আমরা? টাকা দরকার হলে বলতেন। নির্বাচন শুরু না করেই মাঠ ছেড়ে দিলেন। আপনার নাম ইতিহাসে মীর জাফরের পাশে লেখা থাকবে। ধনবাড়ী উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি ও যদুনাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল হাই জানান, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই লিফলেট বিতরণ ও ভোটের প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। নামাজের পর মধুপুরে এসে খবরটি শুনে হতবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, যদুনাথপুরসহ ধনবাড়ীতে মোহাম্মদ আলীর বড় অবস্থান তৈরি হয়েছিল। তার সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা হঠাৎ থেমে গেল। নিজের রাজনীতি নিয়েও এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছি। মধুপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাবেক মহিলা কাউন্সিলর হামিদা খাতুন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতেই তার ওয়ার্ডে কেন্দ্র কমিটি গঠন করেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালেও নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর খবর পেয়ে তিনিও হতাশ হয়ে পড়েন।
আনোয়ার হোসেনের বাসায় এক নেতা জানান, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষ থেকে অনেক নেতা যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু আদর্শের রাজনীতি করি বলে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই ছিলাম। এখন কোনো দিকনির্দেশনা নেই। কি করব বুঝতে পারছি না। একই অবস্থার কথা জানান নেত্রী সোনিয়া, শোলাকুড়ির তরুণ নাহিদ, পৌর এলাকার চাড়ালজানীর জলিল মন্ডল, টেংরির শামসুর রহমান স্বপন ও এক শারীরিক প্রতিবন্ধী সমর্থকও।
সূত্রমতে, বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে নামেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এই অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ও জিয়া পরিষদের ডিরেক্টর পদ থেকে সম্প্রতি বহিষ্কৃত হন। এরপরও তিনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য এর আগে দুইবার নির্বাচন করে পরাজিত হন ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। স্বতন্ত্র হিসাবে দাঁড়ানোর পর থেকেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে মোহাম্মদ আলীর ওপর চাপ ছিল। ঢাকা ও টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় স্বপনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে আনোয়ার হোসেনের বাসায় চূড়ান্ত আলোচনা হয়। স্বপন ফকির চলে যাওয়ার পর খবর ছড়িয়ে পড়লে কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, কর্মীরা মোহাম্মদ আলীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে নিরাপত্তার জন্য কর্মীদের বেষ্টনীতে মোহাম্মদ আলীকে সেখান থেকে নামিয়ে গাড়িতে তুলে বাসায় পাঠানো হয়।
জয়নাল আবেদীন খান বাবলু জানান, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন জানান, আমাকে সমর্থন জানিয়ে মোহাম্মদ আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। সময়মতো তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথা ছিল, কিন্তু তখন ঢাকায় থাকাতে করতে পারেননি। আমরা মিলেমিশে ধানের শীষের বিজয়ে কাজ করব।






