
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কাঁচা বাজারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের পেরিফেরির জায়গা রাতের আধারে দখল করে ছাপড়াঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে মির্জাপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি কুব্বত আলী মৃধার বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৭ মে) রাতে এই জায়গা দখল করে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করা হয়। এই বিষয়ে হাট ইজারাদার কমিটি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ দেয়। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজের নেতৃত্বে ও পুলিশের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবশ্য এই জমি হাল রেকর্ড মূলে মালিক দাবি করেছেন শ্রমিক দল সভাপতি কুব্বত আলী মৃধা। তবে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেছেন, পেরিফেরি আওতাভূক্ত জমিতে স্থাপনা করতে হলে সরকারের পূর্ব অনুমতি লাগে। তারা সেই অনুমতি না নিয়ে রাতের আধারে দখল করেছে।
জানা গেছে, মির্জাপুর কাঁচা বাজারে ৫ দাগে পেরিফেরিভূূূূক্ত ৩ একর জমি রয়েছে। প্রতি বছর বৈশাখ মাসে সরকার নির্ধারিত নিয়মে পৌরসভা এক বছরের জন্য ইজারা দিয়ে থাকে। চলতি বছরও ইজারাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। হাট ইজারাদারের অনুমতি নিয়ে দখলকৃত জমিতে বিপলু বাকালি, নিখিল বাকালী ও কানাই বাকালী কাঁচামালের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত বুধবার (২৭ মে) প্রতিদিনের মতো ওই তিন ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা করে রাত ১১টার দিকে মালামাল ডেকে বাড়ি চলে যান।
রাত দুইটার দিকে উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি কুব্বত আলী মৃধা ও তার চাচাতো ভাই শহীদ মৃধাসহ কয়েকজন সেখানে সিমেন্টের খুঁটি পুতে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে জায়গা দখল করেন। সরকারি বন্ধের দিনে প্রশাসনের অনুপস্থিতির সুযোগে রাতের আধারে তারা এই জমি দখল করেছে বলে হাট কমিটি জানিয়েছেন। পরে কমিটির সভাপতি রাঙা সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সিকদার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) টিনের ছাপড়া উচ্ছেদ করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি কুব্বত আলী মৃধা বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষের নামে এই দাগে সাড়ে ৩ শতাংশ জমির কাগজপত্র রয়েছে। হাল রেকর্ডও আমাদের নামে হয়েছে। এর মধ্যে এক শতাংশের মধ্যে আমরা দখলে রয়েছি। বাকি আড়াই শতাংশের মধ্যে ঘর নির্মাণ করেছিলাম।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেন, পেরিফেরির জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন হলেও স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সরকারের পূর্বাঅনুমতি লাগে। তারা কোন অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায়, তা ভেঙে দেয়া হয়েছে।






