
মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ॥
মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে তথ্য ও জ্ঞানের আদান-প্রদানই ছিল ক্ষমতার মূল নিয়ামক ও প্রগতির চালিকাশক্তি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর উত্তর-আধুনিক পর্বে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও পঞ্চম প্রজন্মের (5G) প্রযুক্তির জ্যামিতিক বিকাশ তথ্যপ্রবাহের চিরন্তন ব্যাকরণকে আমূল ওলটপালট করে দিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক তথ্য-বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, যেখানে তথ্যের অবাধ ও গণতান্ত্রিক অভিগম্যতার সমান্তরালে এক চরম বিপর্যয়কর সংকটের অশুভ উত্থান ঘটেছে- যার নাম ‘গুজব ও ডিপফেক’। এই যমজ সংকট আজ কেবল সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে নাড়া দিচ্ছে না বরং তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সনাতন কাঠামোকেও এক অস্তিত্ববাদী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তির এই অনৈতিক অপব্যবহারের ফলে বস্তুনিষ্ঠ সত্য ও কৃত্রিম মিথ্যার মধ্যকার যে সুক্ষ্ম বিভাজিকা ছিল- তা আজ চরমভাবে বিলুপ্তপ্রায়। ফলশ্রুতিতে মানবসমাজ অবতীর্ণ হয়েছে এক গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক (Epistemological), সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের অতল গহ্বরে।
গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য (Misinformation & Disinformation) ছড়ানোর অপকৌশল মানব ইতিহাসের এক প্রাচীন ব্যাধি। আদিম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে আধুনিক বিশ্বযুদ্ধ-সবখানেই প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সাইবার-বাস্তবতায় এর বিস্তারের গতি ও ব্যাপ্তি ভৌগোলিক সীমানাকে অতিক্রম করে মহাজাগতিক রূপ ধারণ করেছে। এই ক্ষয়িষ্ণু প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও অত্যাধুনিক সংযোজন হলো ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম শাখা ‘ডিপ লার্নিং’ (Deep Learning) এবং জালিয়াতি বা ‘ফেক’ (Fake) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রযুক্তি মূলত জেনারেটিভ অ্যাডভারসারিয়াল নেটওয়ার্কস (GANs) নামক শক্তিশালী অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর মাধ্যমে যেকোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কণ্ঠস্বর (Voice Cloning), মুখাবয়ব (Facial Re-enactment) এবং দৈহিক অঙ্গভঙ্গি অবিকল নকল করে কৃত্রিম অডিও ও ভিডিও ফাইল প্রস্তুত করা হয়। এর ভয়াবহতা এখানেই যে, একজন ব্যক্তি যে কথা কখনো উচ্চারণ করেননি কিংবা যে কর্মকাণ্ডে কখনো লিপ্ত হননি, তাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই দৃশ্যপটে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, টেক্সট বা লেখনীভিত্তিক গুজবের সনাতন যুগ পেরিয়ে মানবজাতি এখন প্রবেশ করেছে ‘অতি-বাস্তবসম্মত’ (Hyper-realistic) অডিও-ভিজুয়াল মিথ্যার এক গোলকধাঁধায়- যেখানে চোখের দেখা কিংবা কানের শোনাকেও আর ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই।
ডিপফেক এবং সিন্থেটিক মিডিয়ার (Synthetic Media) বিধ্বংসী প্রভাব আজ আর কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা নয় বরং এক কঠোর ও নির্মম বাস্তব। আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের যে পরিসংখ্যান ও খতিয়ান পাওয়া যায়- তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ব্রুকিং ইনস্টিটিউশন (Brookings Institution) এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারনেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা উৎপাদিত ভুয়া ও বিকৃত তথ্যের পরিমাণ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ডিপট্রেস’ (Deeptrace) এর এক বৈশ্বিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইন্টারনেটে লভ্য ডিপফেক ভিডিওর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং এর একটি বিশাল অংশ সমাজ ও রাজনীতির স্থিতিশীলতা বিনষ্টের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উন্নত দেশগুলোতে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে ‘গুজব ও ডিপফেক’ আকাশচুম্বী তো বটেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রযুক্তির এই নেতিবাচক জোয়ার থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য-যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (যেমন: রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব, বিডি ফ্যাক্টচেক) বার্ষিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার রাজনৈতিক, ধর্মীয়, গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কুৎসাভিত্তিক গুজব ও ডিপফেক কনটেন্ট সনাতন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিগত সাধারণ নির্বাচনগুলোর সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে চরিত্র হননের এক কুৎসিত সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়ে ভুয়া অডিও ক্লিপ ও বিকৃত ছবি প্রচার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার একাধিক নারকীয় ঘটনা ঘটেছে- যা দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর এক প্রচণ্ড আঘাত।
গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রযুক্তির উৎকর্ষের চেয়েও মানুষের আদিম মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাই গুজব ও ডিপফেক বিস্তারের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-র গবেষকদের পরিচালিত একটি যুগান্তকারী মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বস্তুনিষ্ঠ সত্য খবরের তুলনায় একটি ভুয়া বা কাল্পনিক খবর ৬ গুণ দ্রুত মানবসমাজে পরিব্যপ্ত হয় এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের দ্বারা এটি ৭০ শতাংশ বেশি শেয়ার বা পুনঃপ্রচারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর মূল কারণ হলো মানুষের ‘কনফার্মেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা ‘নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত’। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সেই তথ্য বা বিবরণীকে অতি দ্রুত সত্য বলে গ্রহণ করে, যা তার নিজের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাস, অন্ধ আবেগ কিংবা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের অনুকূলে যায়। ডিপফেক প্রযুক্তি মূলত মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক ফ্রন্টলাইনকেই আক্রমণ করে। যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘোর বিরোধী কোনো রাজনৈতিক চরিত্রের একটি চরম আপত্তিকর বা বিতর্কিত ভিডিও স্ক্রিনে দেখতে পান, তখন তার যৌক্তিক মস্তিষ্ক সেটির সত্যতা বা কারিগরি নির্ভুলতা যাচাই করার পূর্বেই মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেটিকে সত্য বলে রায় দিয়ে দেয়। এই মানসিক অসচেতনতাই অপতথ্য ও কৃত্রিম মিথ্যার সাম্রাজ্যকে দিন দিন আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
সমাজ, রাষ্ট্র ও সামগ্রিক নৈতিকতার অবক্ষয়ে ডিপফেক- এর বহুমাত্রিক অভিঘাত লক্ষণীয়। যেমন- (১) গণতন্ত্রের সংকট ও জনমতের ভাঙন: ডিপফেক প্রযুক্তির অবাধ বিস্তারের ফলে যেকোনো রাষ্ট্রীয় নির্বাচন বা জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে কোনো প্রার্থীর এমন কোনো ভুয়া ও স্পর্শকাতর স্বীকারোক্তির ভিডিও প্রকাশ করা সম্ভব, যা জনমতকে সম্পূর্ণ উল্টো খাতে প্রবাহিত করতে পারে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর অসারতা প্রমাণিত হলেও, ততক্ষণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়ে যায়। (২) নারীর নিরাপত্তা ও জেন্ডারভিত্তিক সাইবার সহিংসতা: বিশ্বব্যাপী ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এর প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রই হলো নারীর অনুমতিবিহীন পর্নোগ্রাফি বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত। এই প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের প্রভাবশালী বা সাধারণ নারীদের সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার করা হচ্ছে- যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার, মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং সামাজিক মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। (৩) গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সংকট ও ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’: যখন নাগরিক সমাজ বুঝতে পারে যে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রমাণাদিও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব, তখন সমাজে এক চরম সংশয়বাদের জন্ম হয়। এর ফলে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকেও মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’ (Liar’s Dividend) যেখানে প্রকৃত অপরাধীরাও নিজেদের বাস্তব অপরাধের ভিডিওকে ‘ডিপফেক’ বা ‘সাজানো’ বলে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
এই সর্বগ্রাসী সংকট থেকে উত্তরণের পথ কোনো একক ও সরল সমীকরণে আবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রযুক্তি খাতের এক সমন্বিত, বহুমাত্রিক ও কঠোর প্রতিরোধমূলক মহাপরিকল্পনা। যেমন- (ক) প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ (Algorithmic Countermeasures): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষাক্ত ছোবল থেকে বাঁচতে আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে (AI vs AI)। মেটা, গুগল, ওপেনএআই-এর মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে- যাতে তারা এমন শক্তিশালী ওয়াটারমার্কিং এবং ক্রিপ্টোগ্রাফিক মেটাডেটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে যেকোনো এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ইন্টারনেটে আপলোড হওয়া মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিপফেক’ হিসেবে চিহ্নিত বা ফ্ল্যাগড হয়ে যায়। (খ) আইনকাঠামোর আধুনিকায়ন ও কঠোর প্রয়োগ: বাংলাদেশের বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইন বা অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আইনগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী করতে হবে। বিশেষ করে ‘ডিপফেক জালিয়াতি’ ও ‘ডিজিটাল ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’-কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে- যাতে অপরাধীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সৃষ্টি হয়। (গ) মূলধারার গণমাধ্যমের রূপান্তর ও ফ্যাক্ট-চেকিং সেল: মূলধারার সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে কেবল দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় না নেমে, তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি বড় গণমাধ্যমে একটি সুসজ্জিত এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ফেক নিউজ ও ডিপফেক ডিটেকশন সেল’ থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। (ঘ) ডিজিটাল লিটারেসি ও সামাজিক প্রতিরোধ: একটি সমাজকে ভেতর থেকে সচেতন না করলে কেবল আইন দিয়ে অপরাধ দমন অসম্ভব। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের পাঠ্যসূচিতে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ‘তথ্য সাক্ষরতা’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সাধারণ নাগরিককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার পূর্বে ‘থিংক বিফোর ইউ লিঙ্ক’ (Think Before You Link) নীতি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
ডিপফেক এবং গুজব কেবল প্রযুক্তির বিবর্তনের কোনো নিরীহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি মূলত সত্যের চিরন্তন ধারণার ওপর এক সুপরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক আঘাত। আমরা যদি এখনই সামষ্টিক বুদ্ধিমত্তা, কঠোর আইনি কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে এই ইনফোডেমিক বা তথ্যের মহামারীকে রুখে দিতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানবসভ্যতা এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে- যেখানে সত্য হবে আপেক্ষিক আর মিথ্যা হবে সর্বজনীন। সত্য ও মিথ্যার এই যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে লড়াই করাটা আজ কেবল কোনো নৈতিক দায়িত্ব নয় বরং এই ডিজিটাল মহাবিশ্বে আমাদের মানবিক অস্তিত্ব, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক চূড়ান্ত ও অনিবার্য সংগ্রাম।
লেখক- সাংবাদিক ও কলাম লেখক।






