
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥
“৯০ মিনিট খেলার মতো ফিটনেস থাকলেতো ওরা খেলবো!” দর্শক গ্যালারী থেকেই আওয়াজটা আসলো। প্রশ্নের উত্তরটাও ওই সব দর্শকের কাছে আছে। দর্শকরা ভালভাবেই বুঝতে পেরেছে যে, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ঘাটতি বলেই ওরা মাঠে কম সময় ফুটবল খেলতে চায়! ফলাফল যাই আসুক, ওরা সন্তুষ্ট! আসলে কথাগুলি বলার পথটা কিন্তু খেলোয়াড়রাই তৈরী করে দিয়েছে। খেলা শুরু হওয়ার কথা ৩.৩০ মিনিটে। অথচ সেই খেলা শুরু হয় ৪ টারও পরে। প্রতিদিনই ফুটবল লীগের খেলা দেরী করে শুরু হয়। ৯০ মিনিটের জায়গায় ৭০ কিংবা ৬০ মিনিট খেলা হয়। মনে হয় অজঁ পাড়াগায়ে ফুটবল খেলা হচ্ছে। বেশী সময় খেললে ওদের স্ট্যামিনা বাড়বে সেদিকে লক্ষ্য নাই! বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন আয়োজিত টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে এটাই প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের বর্তমান হালচিত্র।
সঠিক সময়ে খেলা ছাড়াও কোন কোন দলের মাঠে খেলার সময় তাদের জার্সি থাকে না। জার্সি কোন মতে ব্যবস্থা করতে পারলেও জার্সিতে খেলোয়াড়দের জার্সি নাম্বার নাই। নিয়ম অনুযায়ি রেফারী এ সময় খেলা চালাতে চায় না। তবু বাধ্য হয়ে চালাতে হয়। মাঠে তারকা ফুটবলার নাই, নাই কালো বিদেশী ফুটবলারদের ম্যাজিক, তাই মাঠে চলে দর্শকের খরা। তারপরও দীর্ঘ ৫ বছর পর টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে ফুটবল লীগ হচ্ছে। এটাই অনেক কিছু। কথায় বলে- “নাই মামার চেয়ে কানা মামা অনেক ভালো”। সেই ভালোর পথ ধরে শিরোপা প্রত্যাশী সাবালিয়া ক্রীড়া একাদশ প্রয়াত আতিকুর রহমান জামিল বসের ভঙ্গুর ফুটবল দল থানাপাড়া এলিভেন বুলেটসকে (৪-০) গোলে উড়িয়ে দিয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন আয়োজিত “গ” গ্রুপে সাবালিয়া ক্রীড়া একাদশ ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন থানাপাড়া ইলেভেন বুলেটস ফুটবল দলের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খেলার শুরু থেকে শিরোপা প্রত্যাশী সাবালিয়া ক্রীড়া একাদশের ছন্দময় ফুটবলের কাছে সহজেই হার মানে। খেলার ২২ মিনিটের সময় ডিবক্সের বাইরে থেকে আশিকের জোরালো উঁচু শট গোলরক্ষক মহিদুলকে ফাঁকি দিয়ে বল সরাসরি জালে পৌছায়। এতে (১-০) গোলে দল এগিয়ে যায়। খেলায় এগিয়ে গেলে ইলেভেন বুলেটসের খেলোয়াড়রা আরো অগোছালো হয়ে যায়। সেই অবস্থায় প্রায় ৩৭ গজ দূর থেকে সাবালিয়ার অধিনায়ক রানা চমৎকার শটে আবারো গোলরক্ষককে পরাজিত করে দলকে (২-০) গোলে এগিয়ে রাখে। এরপর খেলার ৩১ মিনিটে সজিব কর্ণার থেকে বাঁকানো শটে সরাসরি গোল করে (৩-০)।
খেলার দ্বিতীয়ার্ধে সাবালিয়া ক্রীড়া একাদশে ঢিমেতালে খেলার সুযোগে ইলেভেন বুলেটস বারকয়েক আক্রমন করার সুযোগ পেলেও গোল করে খেলায় ফিরতে ব্যর্থ হয়। উল্টো খেলার শেষ দিকে সাবালিয়ার খায়রুল ইসলাম আরেকটি গোল করে (৪-০) গোলে জয়ের ব্যবধান আরো বড় হয়। সাবালিয়া ক্রীড়া একাদশ দুটি ম্যাচে জয়লাভ করে পূর্নপয়েন্ট নিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে।
খেলার শুরুতে থানাপাড়া এলিভেন বুলেটস দলের প্রতিষ্ঠাতা ফুটবলার কারিগর প্রয়াত আতিকুর রহমান জামিলের স্বরণে মাঠে খেলোয়াড়, রেফারীসহ সবাই এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।
খেলা শেষে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু লীগের খেলাগুলো দেরিতে শুরু হওয়া এবং খেলোয়াড়দের জার্সি নাম্বার নাই কেন ? এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
দুই দলের খেলোয়াড়রা হলেন- সাবালিয়া ক্রীড়া একাদশ- সিয়াম/ আদিব (গোলরক্ষক), আবিদুর, বিষ্ণু, মনির, রাজু, রানা (অধিনায়ক), তামিম, সজীব, আশিক, সাব্বির ও খায়রুল।
এলিভেন বুলেটস ক্লাব- মহিদুল মিয়া (গোলরকক্ষ), আল মামুন, মাসুদ রানা, মুসফিকুর, বাদশা, শরিফুল, গিয়াস, রহমত আলী, আজিজুল, মিঠুন ও মেহেদী হাসান।
রেফারী- জামিলুর রহমান, সহকারী- মোমিনুল ও রাজু।
সোমবারের (২৬ অক্টোবর) খেলায় অংশগ্রহণ করবে- মুসলিম রেনেসাঁ ক্লাব বনাম থানাপাড়া ব্যায়ামাগার ক্লাব।





