
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় লাইনচ্যুত হওয়া আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগিটি উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে প্রায় ৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ পুণরায় স্বাভাবিক হয়েছে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় যাত্রীদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার রেলওয়ের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (কমার্শিয়াল) হাবিবুর রহমান।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মির্জাপুরের মহেড়া রেল স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। তবে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল ও রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১ ঘন্টা চেষ্টার পর লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করে। লাইন পরিষ্কার করার পর বিকল্প লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ঘোষণা করা হয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ অ্যাণ্ড ওয়াগন) (ডিএমই) রবিউল ইসলাম, বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন-২) নাজিব কায়সার (বিন্দু) ও বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকোমোটিভ) শেখ আসিফ আহমেদকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি কি কারণে ঘটলো তা আমরা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছি। পাশাপাশি লাইনের মেজারমেন্ট, সিগন্যালিং সিস্টেম, ইঞ্জিনের গতিসহ পারিপার্শ্বিক সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিজ্ঞানভিত্তিক একটি রিপোর্ট আমরা দেব। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।






