
স্টাফ রিপোর্টার ॥
কারাগারে থাকতে বিভিন্ন অঞ্চলের বন্দিদের সাথে পরিচয় হয়। তাদের সোর্স (তথ্যদাতা) হিসেবে বেছে নেন। এদের মাধ্যমেই বড় অংকের টাকা নিয়ে কে-কোথায় যাচ্ছেন খবর পেতেন। পথের মধ্যে অস্ত্রের মুখে সেই টাকা ডাকাতি করে নিতেন। তবে ৫০ লাখের নিচে কোন টাকা ডাকাতি করতেন না।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গত (২২ মার্চ) মহিষ ব্যবসায়ী ৭৮ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। এই ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সাগর বাড়ই (৪০) নামক এক ব্যক্তিকে রোববার (৪ মে) পুলিশ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সাগর বাড়ই পুলিশকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তার কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান তার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই ডাকাতির ঘটনায় মিলন ও ইসমাইল নামক দুইজনকে এর আগে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম রোববার (৪ মে) ঢাকায় অভিযান চালায়। খিলগাঁও এলাকা থেকে সাগর বাড়ইকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি মির্জাপুরে মহাসড়কের পাশে একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আহসানুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাগর বাড়ইয়ের বাড়ি গোপালগঞ্জে। তিনি আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, অস্ত্র, দস্যুতাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সাগর জানিয়েছে, তিনি কেরানিগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগারে ৫ বছর বন্দি ছিলেন। সেখানে বিভিন্ন এলাকার বন্দিদের সাথে পরিচয় হয়। সেইসব বন্দিদের মাধ্যমে মানুষের টাকা নিয়ে যাতায়াতের খবর পেতেন। তারা কখনও মানুষের বাড়িতে ডাকাতি করতেন না। টাকা নিয়ে চলার সময় রাস্তায় ডাকাতি করতেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সাগরের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বাদি হয়ে রোববার (৪ মে) অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। অস্ত্র মামলায় ৭ দিনের এবং ডাকাতি মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে সাগরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয় বিকেলে।






