
স্টাফ রিপোর্টার ॥
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই দেশের প্রধান পেশাই হচ্ছে কৃষি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, বর্তমান বাংলাদেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে যে, এই দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, এই দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা। কৃষককে সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সেজন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি। এরই ভিতরে আপনারা নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকের কাছে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ সরাসরি ১০ টি সুবিধা পৌঁছে দিতে। যেই ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে।
তিনি মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল শহরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে একথা বলেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ডিজিটাল মাধ্যমে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন ঘোষনা করেন। পরে টাঙ্গাইলের ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের পূর্বে দেশের মানুষের কাছে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার মধ্যে এই কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতি ছিল। এর বাইরেও আমরা বলেছিলাম যে কৃষকদের বিশেষ করে যাদের দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সেই কৃষি ঋণের সুদসহ দশ হাজার টাকা কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করব। আমরা কমিটমেন্ট দিয়েছিলাম নির্বাচনের পূর্বে। আল্লাহর রহমতে আমরা নির্বাচনের পরে প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আমরা সেই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। যার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১২ লক্ষ কৃষক এই সুবিধাটি পেয়েছে। আজকে আমরা হয়তো মাত্র ২২ হাজার কৃষককে এই কৃষক কার্ডের সুবিধা এই মুহূর্তে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। ইনশাআল্লাহ ২ কোটি ৭৫ লক্ষ কৃষক রয়েছে। এই ২ কোটি ৭৫ লক্ষ কৃষকের কাছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দিব।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সবাইকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই যে পহেলা বৈশাখ আজকের এই অনুষ্ঠানটি। এই অনুষ্ঠানটি কি কেন, পহেলা বৈশাখ কিভাবে আসলো। নিশ্চয়ই অনেকেরই আপনাদের ধারণা আছে। যদিও বর্তমানে এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। কিন্তু পহেলা বৈশাখটি আসলে আমাদের এই বাংলাদেশের কৃষকদের সাথে সম্পর্কিত। এই কৃষির ক্ষেত্রে হোক, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হোক, কৃষকরা তাদের যে হিসাবের খাতা, এই খাতাটি নতুন করে খুলতেন। সেখান থেকে এই পহেলা বৈশাখটি এসেছে। এই পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানটি এসেছে। যেহেতু পহেলা বৈশাখের মূল বিষয়টি আমাদের কৃষক ভাইদের সাথে জড়িত, কৃষানী বোনদের সাথে জড়িত, সেজন্যই কৃষক কার্ড প্রদানের অনুষ্ঠান। আমাদের যে কমিটমেন্ট যে প্রতিশ্রুতি আমরা এই দেশের মানুষের সামনে দিয়েছিলাম সেটির আমরা আজকে উদ্বোধন ঘোষণা করলাম বা উদ্বোধন কার্য আমরা আজকে শুরু করলাম।
তিনি বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ১৯৯১ সালের কথা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করলেন ১৯৯১ সালে উনি কিন্তু ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় ২৫ বিঘা পর্যন্ত যে কৃষি জমি ছিল সেটির খাজনাও সেই সময় মওকুফ করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় আমরা দেখেছি, দেশ স্বাধীনের পরে কৃষকদের ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা হতো। তার মধ্যে একটি বড় সমস্যা ছিল সেচের সমস্যা। সময়মতন তারা পানি পেত না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। যার মাধ্যমে আমরা দেখেছিলাম এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে মোটামুটিভাবে ফসলে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছিল। যেই বাংলাদেশে আমরা দেখেছিলাম ১৯৭৪ সালে দেশের মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল দুর্ভিক্ষে, প্রায় সাত থেকে আট লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল। সেই বাংলাদেশেই আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ারউর সময় শুধুমাত্র খাল খনন করার ফলে, কৃষক সেচ সুবিধা পাওয়ার ফলে আমরা দেখেছিলাম কৃষির উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল। এই বাংলাদেশ থেকে অল্প পরিমাণে হলেও বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে কৃষককে সেচের সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে এই কথাটিও আমরা কিন্তু নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের মানুষের কাছে বলেছিলাম। নির্বাচন শেষ হবার পরে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে আল্লাহর রহমতে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হওয়ার পরে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি কাজ শুরু করেছি। অর্থাৎ আমরা সমগ্র বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি করে শুরু করেছি। এই খাল খনন কর্মসূচিতে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে আগামী পাঁচ বছর প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, মৎস ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এফএও-র কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ জিয়াউকুন সি, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, কৃষক আবুল হোসেন ও কৃষাণী জুলেখা আক্তার বক্তব্য রাখেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন। তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।






