
স্টাফ রিপোর্টার ॥
মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের সন্তোষে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক কবর প্রাঙ্গণে পৌঁছান তিনি। দেশের প্রখ্যাত এই রাজনৈতিক নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাঁর টাঙ্গাইল সফরের বিশেষ একটি অংশ সম্পন্ন করেন। পরে তিনি সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করেন। ভাসানীর কবর প্রাঙ্গণে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মওলানা ভাসানীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর তিনি মওলানা ভাসানীর রুহের মাগফিরাত কামনায় সুরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
সন্তোষে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আসা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ভাসানীর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিশ^বিদ্যালয় ভিসিসহ কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুরোধে ‘বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩’ বরণ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন এদেশের গণমানুষের নেতা। তাঁর আপসহীন আদর্শ ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান সরকার তাঁর দেখানো গণমুখী পথ অনুসরণ করেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। 
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের যে স্বপ্ন ভাসানী দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্যেই আজ টাঙ্গাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে সন্তোষ মাজার এলাকায় কয়েকদিন আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্তোষ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং কবর চত্বরে সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত রাখা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

উল্লেখ্য, মওলানা ভাসানীর এই কবরটি টাঙ্গাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান। যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে আসেন।





