
আব্দুল লতিফ ॥
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ৪নং নগদা শিমলা ইউনিয়ন এলাকায় বইছে আগাম ব্যাপক নির্বাচনী হাওয়া। আর এই নির্বাচনী মাঠে পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি ও মানবিকতার অনন্য প্রতীক হিসেবে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়ে জোরেশোরে মাঠে নেমেছেন চর শিমলা গ্রামের কৃতী সন্তান সমাজসেবক, দানবীর ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা তারিকুল ইসলাম খান তারেক। বিগত ১৯৮৩ সালের (৫ মার্চ) সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এই দূরদর্শী নেতার রক্তেই মিশে আছে জনসেবা ও রাজনীতি। কারণ তার পিতা মরহুম আমির হোসেন খান ছিলেন ৯ নং ওয়ার্ড সৈয়দপুর জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি এবং একই ওয়ার্ডের সাবেক অত্যন্ত জনপ্রিয় ইউপি সদস্য বা মেম্বার যার সুখ্যাতি আজো পুরো এলাকায় বিদ্যমান।
পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারেক খান দীর্ঘ দুই দশক ধরে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ৪নং নগদা শিমলা ইউনিয়নকে একটি মডেল ও আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। সাধারণ মানুষের একমাত্র আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছেন। তার রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। কারণ তিনি অতীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রজন্মদল টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে তরুণ সমাজকে সুসংগঠিত করতে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও তিনি বগুড়াস্থ টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপির গোপালপুর থানা শাখার একজন অত্যন্ত সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
দলের চরম দুর্দিনে মামলা-হামলার শিকার হওয়া নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আইনি ও দলীয় মামলায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান এবং তাদের পরিবারকে নিয়মিত আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা করে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও অত্যন্ত জনপ্রিয় এক নেতায় পরিণত হয়েছেন। একজন পরিচ্ছন্ন ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে তারেক খান তার নির্বাচনী প্রচারণায় স্পষ্ট করে বলেছেন- মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর চাঁদাবাজির অন্ধকারে তিনি তার প্রিয় নগদা শিমলা ইউনিয়নকে আর হারিয়ে যেতে দেবেন না। তিনি চান এক আলোকিত ও স্বপ্নময় আগামীর নগদা শিমলা ইউনিয়ন যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার থাকবে সুনিশ্চিত। পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি তরুণ প্রজন্মের অদম্য শক্তি ও উদ্দীপনাকে কাজে লাগাতে চান এবং একই সাথে প্রবীণদের সুদীর্ঘ প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করে সকল শ্রেণির মানুষের দোয়া ও অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হতে শতভাগ আশাবাদী। তার নির্বাচনী স্লোগানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা এবং জনসেবাকেই জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা। তিনি মনে করেন ক্ষমতা বা অহংকার নয় বরং নিঃস্বার্থ সেবাই হওয়া উচিত একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধির মূল অঙ্গীকার। তারুণ্যের দীপ্তি দিয়ে এলাকার সামগ্রিক উন্নতি সাধন করা এবং অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার মূল নির্বাচনী এজেন্ডা। শুধু মুখের কথায় নয়, তারেক খান তার বহুমুখী সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, গোরস্থান, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিপুল অবদান রাখছেন। যার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় বা মসজিদে দামি টাইলস প্রদান এবং সামাজিক ক্লাব ও সংগঠনে বিনোদনের জন্য টেলিভিশনসহ বিপুল নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি নিজ উদ্যোগে বহু সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন এবং যুব সমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া সামগ্রী ও খেলাধুলার সরঞ্জাম বিতরণ করে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখছেন। এছাড়া প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় তিনি ইউনিয়নের গরিব, দুখী ও অসহায় মানুষের মাঝে উন্নতমানের ঈদ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। এলাকার গৃহহীন অসহায় পরিবারগুলোকে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে সুন্দর ঘর নির্মাণ করে দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছেন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার সময়ে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্গত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার বিতরণসহ নানামুখী মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
যার এক অনন্য প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার উত্তর পাথালিয়া গ্রামে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার নাম যেন ছিল গৌড় চন্দ্রের জীবন কারণ প্রায় দুই দশক আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করার পর থেকে উত্তর পাথালিয়া গ্রামের এই অসহায় গৌড় চন্দ্র তীব্র অবহেলা ও সীমাহীন কষ্টকে সঙ্গী করেই দিন কাটিয়ে আসছিলেন। একটি হুইলচেয়ার না থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাটা তার কাছে ছিল এক দুঃসহ দৈনন্দিন সংগ্রাম যা তাকে ঘরের চার দেয়ালে বন্দি করে রেখেছিল। অবশেষে সেই দীর্ঘ দুই দশকের দুঃসহ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন মানবিক নেতা তারেক খান যখন তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে এই অসহায় মানুষের করুণ বিষয়টি জানতে পেরে সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে গৌড় চন্দ্রকে একটি আধুনিক হুইলচেয়ার উপহার দিয়ে তার মুখে হাসি ফোটান। হুইলচেয়ারটি সরাসরি হাতে পেয়ে নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এবং প্রচণ্ড আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দীর্ঘ ২০ বছর পঙ্গুত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়ানো গৌড় চন্দ্র। বহুদিন পর নিজের স্বাধীনভাবে চলাফেরার নতুন আশার আলো দেখতে পেয়ে তিনি তারেক খানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং পরম করুণাময়ের কাছে তার দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসীও তারেক খানের এই দৃষ্টান্তমূলক মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এমন নিঃস্বার্থ সহায়তায় পুরো গ্রাম জুড়ে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শুধু ব্যক্তি বিশেষের সহায়তাই নয়, এলাকার সামষ্টিক জনদুর্ভোগ দূরীকরণেও তিনি সমানভাবে তৎপর রয়েছেন। যার প্রমাণ মিলেছে একই উত্তর পাথালিয়া গ্রামে। গ্রামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তার অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল যার ফলে বর্ষাকালে কাদামাটিতে একাকার হয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ নিরুপায় হয়ে এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানের জন্য তারেক খানের কাছে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য একটি আকুল আবেদন জানান। এলাকাবাসীর এই সীমাহীন দুর্ভোগ ও কষ্টের কথা শোনা মাত্রই তিনি বিন্দুমাত্র দেরি না করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ অর্থায়নে অতি দ্রুতই রাস্তাটি সম্পূর্ণ সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন। স্থানীয়দের ভাষায় একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ভোগান্তি দূর করতে স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসার এই অনন্য উদ্যোগ সত্যিই বিরল এবং প্রশংসার দাবি রাখে।
উত্তর পাথালিয়া, চর শিমলা ও নগদা শিমলা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রবল প্রত্যাশা যে, তারেক খানের এমন নিঃস্বার্থ ও মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজের অন্যান্য বিত্তবান মানুষ ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদেরও আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তিনি নিজেকে শাসক হিসেবে নয় বরং একজন বিনম্র সেবক হিসেবে নিয়োজিত রাখতে চান। এজন্যই তিনি আসন্ন ৪নং নগদা শিমলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সর্বস্তরের জনগণের মূল্যবান ভোট ও প্রাণঢালা দোয়া প্রার্থনা করছেন। তার এই সততা, নিষ্ঠা, পৈত্রিক ঐতিহ্য, অনন্য মানবিকতা ও পরিবর্তনের বলিষ্ঠ অঙ্গীকার দেখে ৪নং নগদা শিমলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন এবং দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তাকে একজন যোগ্য অভিভাবক ও ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন যা আগামী নির্বাচনে তার পক্ষে এক বিশাল গণজোয়ার সৃষ্টি করছে।






