
স্টাফ রিপোর্টার ॥
উচ্চ মূল্যস্ফীতির পর এবার নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নতুন দুর্ভোগ হয়ে এসেছে বৈরী আবহাওয়া। ভারী বৃষ্টিতে দেশসহ টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র সরবরাহ সংকট। এতে চাল, সবজি ও মাছের মতো নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। বছরজুড়ে সস্তা থাকা আলুও এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি চালের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতারা হতভম্ব। টাঙ্গাইলের কাঁচাবাজারগুলোয় শুরু হয়েছে পারস্পরিক দোষারোপ। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিলাররা চালের সরবরাহ আটকে রেখেছে। তবে মিল মালিকেরা এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। একটু কম দামে কেনার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বাজারে আসছেন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্রেতাই খালি হাতে ও হতাশ হয়ে ফিরছেন।
এদিকে টানা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে টাঙ্গাইল পার্ক বাজারে আসা ইসলাম খান চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বাজেট ঘোষণার আগে স্বস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও উল্টো দাম বেড়ে গেছে। তানিম রহমান জানান, সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের দাম প্রতি কেজি ১৫০ টাকার নিচে থেকে একলাফে ১৮০ টাকায় ঠেকেছে। বাজারে সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি মেলাই ভার। সাধারণ কাঁচা পেঁপের কেজিও ৫০ টাকা। পিছিয়ে নেই ডালের বাজারও। ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। সাদা ডিম ১২০ টাকা ও লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। বাজারের আলু বিক্রেতা মাছুম মিয়া জানান, আলুর কেজি এখন ৩০ টাকা। গাইবান্ধার সরবরাহকারী সুবহান রহমান জানান, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা আলু মজুত করে রাখছেন। ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
মূল্যের এই ওঠানামা চাল খাতে বাজার কারসাজি ও সিন্ডিকেটের জোরালো অভিযোগ তুলেছে। সরকারি তথ্যমতে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে সরকার ধান সংগ্রহের মূল্য না বাড়ানোয় কৃষক বা ভোক্তা কেউই লাভবান হননি। এক মাসের ব্যবধানে ২৫ কেজির বস্তাপ্রতি নাজিরশাইল চালের দাম ২০০ টাকা বেড়েছে। ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি বিআর-২৮ চালের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। মিল মালিক ও মজুতদারদের সরাসরি কারসাজিকে তিনি এর জন্য দায়ী করেন।
সংকট এখন মাছ ও মুরগির বাজারেও জেঁকে বসেছে। বাজারের পাইকারি আড়তে মাঝারি আকারের রুই মাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে তা ঠেকেছে ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকায়। কম দামের মাছগুলোও এখন নাগালের বাইরে। সস্তার তেলাপিয়া কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ২৫০ টাকা হয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের শেষ ভরসা পাঙাশ মাছের কেজি এখন ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা। বিলাস বহুল ইলিশের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশব্যাপী বন্যার কারণে মাছের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
বাজারে আসা ক্রেতারা বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাম্প্রতিক বাজেট ঘোষণা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। চাল, গম, ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হলেও বাজারে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় এই শুল্ক ছাড় খুবই সামান্য। এই নীতিকে চামচ দিয়ে সমুদ্রের জল ভরার চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তারা আরও বলেন, ৫ হাজার টাকার বাজারে মাত্র ৫০ টাকা সাশ্রয় সংকটে থাকা নাগরিকদের কোনো স্বস্তি দিতে পারে না।






