
স্টাফ রিপোর্টার ॥
বাজারে গেলে এখন যেন নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কোথাও সরবরাহ কমে মাছের দাম চড়া, কোথাও আবার শীতের সবজি আসায় কিছুটা কমেছে দর। তবে সব মিলিয়ে টাঙ্গাইলের নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। বিক্রেতাদের দাবি, মাছের সরবরাহ কমার পাশাপাশি বেড়েছে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ, তার প্রভাব পড়ছে বাজারে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলে দাম বাড়ার কারণে যানবাহনের মূল্যবৃদ্ধির নামে দাম বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের। টাঙ্গাইলের বাজারে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম। সবচেয়ে বেশি চড়া ইলিশ মাছ। আকার ও মানভেদে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। ১০০ টাকা করে রুই ৩৫০ টাকা, আর পাবদা ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য মাছেরও দাম বেশি। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল পৌর শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, সিটি বাজার, সন্তোষ বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বেড়েছে ৫০০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ২৩শ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। আর ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি। ছোট ইলিশেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের, কেজি ৬০০ টাকা। সঙ্গে বেড়েছে পোয়া, লইট্টা ও চিংড়ির দামও।
এদিকে, বাজারে বাড়ছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। শিম ২০০ থেকে ২২০, টমেটো ১২০, মূলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। বিক্রেতাদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে, তাই পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক অপরিবর্তিত ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালি ৩৪০ টাকা কেজি। বাজারে স্থানীয় সরবরাহের পাশাপাশি আগাম শীতকালীন সবজি আসায় সপ্তাহ ব্যবধানে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে বেশ কিছু সবজির দাম। শুধু মাছ-সবজি নয়, চাপ পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারেও। ডজনের বদলে হালিতে তিন টাকা বেড়ে ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়। খোলা আটা ৪৮, পেঁয়াজ ৪৫, রসুন ১৪০ টাকা কেজি। বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের চালের দামও।
ছুটির দিনে টাঙ্গাইলের কাঁচাবাজারে প্রায় সব সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। তবে দাম কমেছে লেবু, বরবটির। অন্যদিকে বাজারে দাম বেড়ে ইলিশসহ চাষের মাছের। আর মুরগী ও ডিমের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও যাতায়াত ভাড়া বেড়েছে, তাই ক্রেতা চাহিদা বেশ কম। বাজারে কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, আর কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এছাড়া দাম বেড়েছে বেগুন, পেঁপে, শশা, ঢেঁড়স, লাউ, জলপাই, ঝিঙের। তবে প্রতি হালিতে পাঁচ টাকা কমে লেবু বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০ টাকায়। আর কাচা মরিচের দাম স্বাভাবিক থাকলেও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
অন্যদিকে ডিম-মুরগির দামও বাড়তি। বাজারে কেজিতে বেড়েছে প্রায় সব মাছের দাম। প্রতি কেজিতে ৪০০ টাকা বেড়ে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ জাহার ৪০০ টাকায়। আর কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ এবং কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে রুই বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়। তবে স্বাভাবিক রয়েছে চাষের চিংড়ির দাম। অন্যদিকে, গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ময়দা বেড়েছে তিন টাকা। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। চিনিগুড়া চাল কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ২১৫ টাকায়, মশুর ডাল কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা, চিনি কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা আর তেল লিটার প্রতি ৫ টাকা বেড়ে ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পণ্য সরবরাহ থাকলেও জ্বালানি খরচ বেড়েছে অনেকটা। আর ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।






