
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় প্রবাসীদের ১০ লাখ টাকায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় বাতি স্থাপন করা হয়েছে। রাস্তায় বাতি স্থাপনের উদ্যোগে হাবলা ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামের প্রবাসীরা প্রশংসায় ভাসছেন।
জানা গেছে, উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামের প্রবাসীরা নিজেদের ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তায় ১০০টি বাতি স্থাপন করেছেন। সোনালিয়া এলাকাবাসীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পাঁচ মাসের মধ্যেই তিন কিলোমিটার রাস্তায় বাতি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়। আলোকিত সোনালিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি বাতি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি বাতি স্থাপনে ৭-৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। প্রতি ১০০ ফুট দুরত্বে ১টি করে বাতি বসানো হয়েছে। সোনালিয়া প্রবাসীরা শুধু রাস্তায় বাতি স্থাপন নয়, অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের পাশেও দাঁড়ান।
স্থানীয়রা জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া সুন্দরী খালের পাশ দিয়েই সোনালিয়া গ্রামের রাস্তা। করটিয়া বাজার থেকে সোনালিয়া কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তায় বাতি স্থাপন করা হয়েছে। শুধু এই এক রাস্তা নয়, গ্রামের কয়েকটি রাস্তায় তারা বাতি স্থাপন করেছেন। যার ফলে আলোকিত হয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। রাতের সময় এই রাস্তা দিয়ে চলতে অনেক সমস্যা হতো। এখন বাতি থাকায় মানুষ নিবিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল আউয়াল উজ্জ্বল বলেন, প্রবাসীদের ১০ লাখ টাকায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় ১০০টি বাতি বসানো হয়েছে। সম্পূর্ণ রাস্তা ও এলাকা আলোকিত করে ফেলেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, তোমাদের এলাকা তো সিঙ্গাপুরের মতো বানিয়ে ফেলেছো। তোমাদের এলাকার ছেলেরা ভালো কাজ করেছে। এ রকম কাজ হলে তো দেশ ও গ্রাম এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, এই এলাকার পাশেই ঐতিহ্যবাহী করটিয়া হাট ও সরকারি সা’দত কলেজ। এই রাস্তা দিয়ে অনেক মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এই বাতি বসানোর ফলে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছেন। আমরা এলাকাবাসী সবাই আনন্দিত। প্রবাসীদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।

পশ্চিম পৌলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, কৃতজ্ঞতা শেষ করা যাবে না প্রবাসীদের প্রতি। তারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ১০ লাখ টাকা খরচ করে এতো সুন্দর একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। আজকে সোনালিয়া গ্রামকে আলোকিত করেছেন। আমাদের তরুণ সমাজ হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও তারা গ্রামের প্রতি মমত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন। আমার সত্যিই আনন্দিত।
হাবলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল হক বলেন, মানুষ এখন রাতে ভালোভাবে চলাচল করতে পারছে। আগে রাস্তায় চলাচল করলে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতো। এখন আর চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটবে না। প্রবাসীরা ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে। প্রবাসীরা প্রশংসার দাবিদার। সোনালিয়া গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সবাই প্রবাসীদের সহযোগিতা করেছে। এই গ্রামের প্রবাসীরা বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করে আসছেন।
আলোকিত সোনালিয়া প্রকল্পের সভাপতি তরিকুল ইসলাম রতন বলেন, মানুষ এখন সুন্দরভাবে যাতায়াত করতে পারছেন। প্রবাসীরা যেন গ্রামের উন্নয়নে সবসময় অবদান রাখতে পারেন। আমরা প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতা করব।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক নুরুল ইসলাম রবিন বলেন, আমি সোমালিয়া গ্রামের একজন সন্তান। আমি সোনালিয়াতে জন্মগ্রহণ করে আনন্দিত। সোনালিয়া গ্রামে যারা প্রবাসে বসবাস করে সেই সোনার ছেলেরা সোনালিয়া গ্রামের অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তা তারা আলোকিত করেছেন। আগামী দিনগুলোতে সোনালিয়া একটি আদর্শ গ্রাম হিসেবে রুপান্তর করার জন্য যা যা করণীয় আমরা প্রবাসীদের পিছনে ও সামনে থেকে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করব।





