
এরশাদ মিঞা, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের দেওহাটা সরকারি হাটের জমিতে অবৈধভাবে ‘স’ মিল স্থাপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা শ্রমিকদলের সহ সভাপতি কাজী সাইদুর রহমান গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা হাটের (কাঠ হাটে) জমি দখল করে এই ‘স’ মিল স্থাপন করছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে। এতে স্থানীয় লোকজন ছাড়াও দেওহাটা বাজারের ব্যসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী হাটের সরকারি জমি দখল করে ‘স’ মিল নির্মানের বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তারা জানান এভাবে হাটের জায়গায় স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে থাকলে একসময় হাটের জমি বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা হাটের বিশাল একটি অংশে রয়েছে সাপ্তাহিক গরুর হাট। আর অপর একটি বিশাল অংশে রয়েছে কাঠের বাজার। এ বাজারে সপ্তাহের প্রতি সোমবার বাদে প্রতিদিন কাঠ কেনাবেচা হয়ে থাকে। গোড়াই ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান (বর্তমানে দায়িত্বরত চেয়ারম্যান) কামরুজ্জামান হাটের কিছু অংশ পজিশন নিয়ে যুগ যুগ ধরে কাঠের ব্যবসা করে আসছেন। সম্প্রতি তার পজিশনের একটি অংশে উপজেলা শ্রমিকদলের সহ সভাপতি কাজী সাইদুর রহমান মাটি ফেলে ভরাট করেন। সম্প্রতি সেখানে তিনি একটি ‘স’ মিল স্থাপন করছেন। এতে ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষো সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘স’ মিলটি প্রকৃতপক্ষে গোড়াই ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের। তার নাম প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কায় তিনি শ্রমিকদলের নেতা কাজী সাইদুর রহমানকে সামনে রেখে ‘স’ মিলটি স্থাপন করাচ্ছেন। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও কামরুজ্জামানের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে বা প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, দেওহাটা হাট সরকারি রাজস্ব আদায়ে এ উপজেলায় দ্বিতীয় তম হাট। এই হাট থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। এই হাটের জমি দখল করে ‘স’ মিল স্থাপন করা হচ্ছে প্রশাসনের লোকজন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় অনেকেই ক্ষমতার দাপটে দখলে মেতে উঠবেন। এতে হাটের জমি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। দখল নজির বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

দেওহাটা হাটের ইজারাদার নজরুল ইসলাম বলেন, দেওহাটা হাটের যে স্থানে ‘স’ মিল স্থাপন করা হচ্ছে সেই স্থন সরকারি হাটের জমি। ওই জমিতে পজিশন নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন যাবত কাঠের ব্যবসা করছেন। ‘স’ মিলের কাজ মাঝ পথে কিছুদিন বন্ধ ছিল আবার চালু করা হয়েছে। আপনি হাটের ইজারাদার হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমার নামে হাট ইজারা হলেও হাটের অফিসিয়াল সব কাজসহ সকল প্রকার কাজ কামরুজ্জামান করে থাকেন।
মির্জাপুর উপজেলা শ্রমিকদলের সহসভাপতি কাজী সাইদুর রহমান বলেন, কামরুজ্জামানের পজিশনে আমার পুরাতন ‘স’ মিলটি স্থাপন করছি। উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি কুব্বত আলী মৃধা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
গোড়াই ইউনিয়ন সহকারি (ভুমি) কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল মিয়া জানান, কয়েক দিন আগে ‘স’ মিল স্থাপনের বিষয়টি জানতে পেরে কাজে বাধা দেয়া হয়েছিলো। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবার কাজ শুরু হয়েছে শুনেছি। অফিসিয়াল নির্দেশনা না পাওয়ায় পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
গোড়াই ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান (বর্তমানে দায়িত্বরত চেয়ারম্যান) কামরুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আমি ওই পজিশনে থেকে কাঠ ব্যবসা করে আসছি। এখন সাইদুর রহমান সেখানে মাটি ভরাট করে ‘স’ মিল স্থাপন করছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
এ বিষয়ে বাঁশতৈল রেঞ্জের এসিএফ অমি আক্তার বলেন, খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তৌহিদ রেজা বলেন, আমরা ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হবে বলে তিনি জানান।






