
নুরুল ইসলাম, দেলদুয়ার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় ৫০ বছরের পুরাতন রাস্তায় বেরিকেট সৃষ্টি করে দখলের পায়তারা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এতে ওই রাস্তা ব্যবহারকারী দশটি পরিবারের লোকজন গৃহবন্দী হয়ে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি লাউহাটি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বর্নী গ্রামের।
সরেজমিন বর্নী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বর্নী গ্রামের ১৫০ মিটারের দৈর্ঘ্য একটি পুরাতন রাস্তা। যা ওই এলাকার মানুষ ৫০ বছর যাবত ব্যবহার করে আসছে। রাস্তাটিকে আরো চলাচল উপযোগী করতে ওই এলাকার জনহিতৈষী বীর মুক্তিযোদ্ধা অমূল্য কুমার দাস, শিল্পী রানী দাস, সুচিত্রা রাণী দাস ও সবিতা রানী দাসের নিজ নামিও ১৯ শতাংশ জায়গা রাস্তার জন্য স্থানীয় আব্দুল আউয়াল অনুকূলে দানপত্র দলিল করে দেন। কিন্তু বিগত ২০২৫ সালে রাস্তার পাশের জমি ক্রয় করেন স্থানীয় হেরেন্ডপাড়া গ্রামের সেলিম রেজা। তারপর থেকেই সেলিম রেজা দাবী করে আসছেন জমির পাশে রাস্তার জায়গাও তার ক্রয়কৃত। সে মোতাবেক রাস্তা দখলের নিমিত্তে তিনি গাছের চারা রোপন করেন।
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে গাছের চারাগুলো অপসারণ করে জনসাধারণের চলাচলের স্বার্থে রাস্তাটি উন্মুক্ত করে দেন। সম্প্রতি রাস্তাটি কেটে তার দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায় সেলিম রেজা ও তার বাহামভূক্তরা। কিন্তু প্রশাসন ও সুবিধাভোগীদের বাধার মুখে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
এ ব্যাপারে লাউহাটি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে সরকারি বরাদ্দে দুই দফা রাস্তাটি মেরামত করা হয়েছে। প্রকল্পটির নাম ছিলো “বর্ণী বীর মুক্তিযোদ্ধা অমূল্য দাসের বাড়ি হতে আব্দুল আউয়ালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা মেরামত করণ”। রাস্তাটি বর্তমানে সেলিম রেজা ও তার বাহামভূক্তরা দখলের পায়তারা করছে, যা খুবই দুঃখজনক।
লাউহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন মোহাম্মদ খান বলেন, মানুষ চলাচলের জন্য বর্ণী গ্রামের পুরাতন একটি রাস্তা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে টানা হেঁচড়া চলছে। সম্প্রতি একপক্ষ দখলের জন্য গাছের চারা লাগালে প্রশাসন তা অপসারণ করেছে। রাস্তাটি মানুষেল চলাচলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে সেলিম রেজা বলেন, বিগত ২০২৫ সালে আমি বর্ণী গ্রামে ১০৬ শতাংশ জমি কিনেছি। যার দাগ নং ৬২১১, ৬২১২ ও ৬২১৩। আমার জমির উপর দিয়ে পুরাতন ১৫০ মিটার রাস্তা গেছে। যার টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলাধীন এলজিইডি কর্তৃক নতুন সড়কের আইডি নম্বর ৩৯৩২৩৫৩০৪। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আমার অগোচরে ভূলবসত কৃষি জমির উপর রাস্তার আইডি নম্বর বসিয়েছে। আমি এ আইডি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করেছি। যেহেতু ক্রয়সূত্রে রাস্তাটি আমার জমির অংশে পড়েছে। সেহেতু রাস্তায় আমি গাছ লাগিয়ে ছিলাম। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন আমাকে না জানিয়েই সে গাছ অপসারণ করেছে। আমি আমার জায়গার উপর দিয়ে একটি পরিবারের চলাচলের জন্য ১৫০ মিটার দৈর্ঘের রাস্তা দেব না।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছরের উর্ধ্বকাল এলাকার মানুষ রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছে। রাস্তার পাশে সেলিম রেজা জায়গা কিনেছে ২০২৫ সালে। দীর্ঘ ২০ বছরের উর্ধ্বকাল কোনও জনগোষ্ঠি রাস্তা ব্যবহার করলে তা পাবলিক ইজমেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাছাড়া রাস্তাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত। সরকারি বরাদ্দে এ রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজও হয়েছে। রাস্তাটিতে ওই এলাকার সেলিম রেজা নামের ব্যক্তি নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছ লাগিয়েছিল। গাছগুলি ইতিমধ্যেই অপসারণ করা হয়েছে।





